দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লিবিয়ায় অপহরণের প্রায় আড়াই মাস পর নওগাঁর মান্দা উপজেলার আলমগীর হোসেন (৪৫) এর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।
পরিবার ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যার পর ত্রিপোলিতে কর্মস্থল থেকে আলমগীর হোসেনকে পুলিশের পোশাক পরিহিত একটি সশস্ত্র চক্র মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
আলমগীর হোসেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি প্রায় সাত বছর ধরে লিবিয়ায় নির্মাণ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন।
নিহতের ভাই ও লিবিয়া প্রবাসী জিল্লুর রহমান জানান, আলমগীর ত্রিপোলির তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন মাগরিবের নামাজের পর দায়িত্ব পালনকালে তাকে অপহরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অপহরণের পর থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। ওই সশস্ত্র চক্রের আস্তানায় আরও বাংলাদেশি জিম্মি ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
জিল্লুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিপণ দিয়ে কয়েকজনকে মুক্তি দেওয়া হলেও আলমগীর হোসেনের জন্য ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অর্থ না দেওয়ায় তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত জিম্মিদের কাছ থেকে জানা যায়।
এদিকে, নিহতের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, ঘটনার দিন কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে স্বামীর সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
তিনি দাবি করেন, পরিবারের কাছে কোনো মুক্তিপণ দাবি করা হয়নি এবং স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা চান।
আলমগীর হোসেনের মৃত্যুর খবরে নুরুল্লাবাদ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত মরদেহ উদ্ধার ও দেশে ফেরত আনার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জে আই